করোনা ও মাস্ক
ডাঃ মোঃ কাশেম আলী: চীনের উহান শহর থেকে উদ্ভুত, এন করোনা ভাইরাস-১৯০০ বিশ্বের ১৯৫ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম কাতারে রয়েছে বিশ্বের উন্নত ১০টি দেশ। হিমশিম খাচ্ছে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে। উক্ত দেশগুলোতে যে হারে করোনার সংক্রমণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই তুলনায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহন করে, এ রোগটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তবে দ্বিতীয় ফেইজে এখনি সতর্ক না হলে এই বৈশ্বিক মহামারি বাংলাদেশে মারাত্মক আকার ধারন করবে।
করোনা আক্রান্তের চেয়ে সচেতনতাই বেশি দরকার, আর সচেতনতার অংশ হিসেবে ঘরের বাইরে গেলে বিশেষ করে বাস, অটোরিকশায় বা ট্রেনে উঠলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। কিন্তু যে মাস্ক পরতে হবে তা হলো এন ৯৫ যা ৯৫% প্রতিরোধ করে এবং ২ ঘন্টা পরে থাকা যায়, ২ ঘন্টা পর ফেলে দিতে হবে। তারপর আবার, যেহেতু এন ৯৫ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সার্জিকাল মাস্ক পরা উচিত, যা এন ৯৫ এর মত প্রতিরোধ করতে পারে না। সার্জিকাল মাস্ক ৪-৬ ঘন্টা ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সার্জিকাল মাস্ক বাজারে পাওয়া গেলেও ব্যায় বহুল। ইদানিং বাজারে এটির ও সংকট দেখা গেছে।
একান্তই যেহেতু সার্জিকাল মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না, সহজ ও সস্তা পদ্ধতি হলো কাপড়ের মাস্ক পরা। কাপড়টি হতে হবে পপলিন কাপড়ের, তিন স্তরের এবং একটু বড় সাইজের যা নাক মুখ ভালভাবে ঢাকতে পারে। এটিও ৪-৬  ঘন্টা পর পর পরিবর্তন করতে হবে। মাস্ক পরিবর্তন করার কারণ হলো, মুখের লালা এবং থুতুু মাস্কে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বহুগুন বৃদ্ধি করে (রেপ্লিকেশন ঘটে)। এবং পরিবর্তন না করার জন্য এই ভাইরাস  বা ব্যাকটেরিয়া দিয়েই ব্যক্তির শ্বাসনালীর সংক্রমন ঘটতে পারে।
মাস্ক পরা অবস্থায় অবশ্যই মাস্কে হাত দেয়া যাবে না, এবং মাস্কটি খুলে টেবিলে বা হাত পরে এমন কোন জায়গায় রাখা যাবে না। সুস্থ মানুষ ছাড়াও যারা সর্দি কাশি হাচিতে ভুগছেন, তারা অবশ্যই বাড়িতে অবস্থান করবেন এবং উপরোক্ত নিয়মে মাস্ক পরিধান করবেন। ইদানিং দেখা যাচ্ছে শতকরা ৭০% মানুষ ব্যবহার করছে বাজারে পাওয়া যাওয়া এক কোনায় প্লাস্টিক লাগানো কনিকাল মাস্ক যা দেখতে এন ৯৫ এর মত। এগুলো শুধুমাত্র ধুলাবালি প্রতিরোধ করে, ভাইরাস নয়।
নির্মম হলেও সত্য, শুধুমাত্র মাস্ক ঠেকেতে পারে না করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হাচি কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, একজন থেকে আরেকজন চলার পথে ৩-৫ ফিট ব্যক্তিগত দুরত্ব মেনে চলা,সামাজিক দুরত্ব যেমন, সভা সমাবেশ, ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণ না করা। বাজারে দোকানে গেলে ভীড় এড়িয়ে চলা এবং এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত দুরত্ব মেনে চলা। সর্বপরি প্রয়োজন, সবার আগে ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অপরিস্কার হাত মুখে চোখে না লাগানো। লেখক : অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, লালমনিরহাট।
স্বাস্থ্য বার্তা- এর অন্যান্য খবর