রক্তস্নাত স্বাধীনতা
বার্তা রিপোর্ট: বার্তা রিপোর্ট ॥ ১৯৭১ সালের ১মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ২রা মার্চ দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ৩রা মার্চ রংপুরে জাহাজ কোম্পানীর মোড়ে পাকিস্তানী হানাদারদের গুলিতে প্রথম শহিদ হন ১২ বছরের শিশু সঙ্কু-সমজদার। পরে রংপুরে আরো ২জন শহিদ হন। বঙ্গবন্ধু ৭মার্চ সোহরাওয়াদী ময়দানে  ঐতিহাসিক ভাষণে দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দেন, ‘এ বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এ বারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম।’ এর পরেই গোটা বাংঙ্গালী জাতি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। সর্বত্রই ছড়িয়ে পরে স্বাধীনতার আন্দোলন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে ইয়াহিয়া বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙ্গালী জাতির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, নারীর স¤্র¢ম হানী, অগ্নি সংযোগ, নিপীড়ন নির্যাতন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে হত্যাকান্ডে শিকার হয় ৩০ লাখ মানুষ। ২ লাখ নারীর স¤্র¢ম হানি ঘটে। নরপশুদের পাশবিক নির্যাতনে অনেকেই প্রাণ হারায়। শুধু তাই  (২য় পৃষ্ঠায়)
নয়, মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী ১ কোটি শরনার্থীর মধ্যে ৯ লাখ শিশু, যুবক-যুবতী, মহিলা-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অর্ধাহারে-অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বরণ করে। মুসলমানের ধর্মীয় রিতি মোতাবেক মৃত ব্যক্তির লাশ কবরস্থ এবং হিন্দু শাস্ত্র মতে পরলোকগতদের দাহ করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে লাশ মাটি চাপা দিয়ে কিংবা নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে গিয়ে লোক সম্মুখে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লাশের উপর দিয়ে সামরিক যান চালিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে হাজার হাজার সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য শহীদ হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের কারণে অনেক নিস্পাপ অবাঙ্গালীও হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিল। অবশেষে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ মাতৃকা হানাদার মুক্ত হয়। তাই রক্ত¯œাত বাংলাদেশ, রক্ত¯œাত স্বাধীনতা।
স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্যে লেখা রয়েছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- সেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে। (...চলবে)   
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর