বাড়তি ফি না দেওয়ায় ২ ঘণ্টার পরীক্ষা ১৫ মিনিটে শেষ
বার্তা মনিটর: বাড়তি ফি চারশ’ টাকা না দেওয়ায় ২ ঘণ্টার বদলে ১৫ মিনিট পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হরিণাকুণ্ডুর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার আলীম মাদ্রাসা কেন্দ্রে মঙ্গলবার ২০২০ সালের দাখিল কৃষি শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে ১৮ শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের পরে ১৫ মিনিট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থী টনি জানান, সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা নির্ধারিত সময় ছিল পরীক্ষার। ১৮ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে আসলে তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে নিষেধ করেন ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় তিনি প্রবেশপত্র বাবদ তাদের কাছে চারশ’ টাকা করে দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলেও জানান ওই শিক্ষক। এ সময় তাদের ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। 
পরীক্ষার্থী ঝুমুর জানান, তারা পরীক্ষার আগে ফরম পূরণ বাবদ দুই হাজার, ব্যবহারিক বাবদ দুইশত ও পরে পরীক্ষা চলাকালীন আরও দেড়শত টাকা দিয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল ১০টার আগেই তারা কেন্দ্রে আসলে প্রবেশপত্রের জন্য আরও চারশ’ টাকা দাবি করেন ওই শিক্ষক। তারা টাকা না দেওয়ায় এ সময় তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে তারা বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে টাকা দিলে নির্ধারিত সময়ের পরে বেলা ১২টা ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত মাত্র ১৫ মিনিটে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষার্থীদের বোর্ড নির্ধারিত এক হজার ৯ শত টাকা নেওয়ার পরিবর্তে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আরও অতিরিক্ত একশত টাকা  নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্যবহারিক বাবদ দু’দফায় আরও সাড়ে তিনশত টাকা নেওয়া হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের দুইশত পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে।
শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আমি অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী এ কাজ করেছি।'
হরিণাকুণ্ডু আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, ওই পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা বাকি ছিল। তবে অভিযোগ সঠিক হলে তদন্ত পূর্বক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুল হক সমকাল কে বলেন, যদি এমনটি ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত পূর্বক ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিস সুলতানা বলেন, প্রবেশপত্র বাবদ টাকা নেওয়ার কথা নয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। (সূত্র: সমকাল)
শিক্ষা বার্তা- এর অন্যান্য খবর