রক্তস্নাত স্বাধীনতা
বার্তা রিপোর্ট: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, শোষণ ও আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা। তাই বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সমাজতন্ত্র ও শোষণ মুক্তির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সমাজতন্ত্র ও শোষণ মুক্তির জন্য বিগত ৪৯ বছরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারগুলো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ     (২য় পৃষ্ঠায়)
করেন নি বললেই চলে। তাই সমাজতন্ত্র ও শোষণ মুক্তির বিষয়টি সুদূর পরাহত। বরং বিগত ৪৯ বছরে সর্বক্ষেত্রে চলছে শোষণ ও পাহাড় সমান বৈষম্য। দেশের এমন একটি ক্ষেত্রও নেই যেখানে শোষণ ও বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উন্নত এলাকার সাথে অনুন্নত এলাকার উন্নয়নে সমন্বয় সাধন সহ নানাবিধ ক্ষেত্রে রয়েছে চরম বৈষম্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবদীপ্ত রংপুরাঞ্চলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ৩৫ লাখ মানুষের যোগাযোগের জন্য তিস্তা নদীর উপর সড়ক সেতু নির্মানে ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অথচ এই সেতু নির্মানে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১শ’২৫ কোটি টাকা।
দেশের দক্ষিনাঞ্চলে সেতু নির্মান সহ অন্যান্য প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখনও যোগাযোগের ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চল অনেক অনেক দূর পিছিয়ে আছে এবং থাকবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে সাধারণ ও নি¤œ মধ্যবিত্তের সন্তানেরা। শিক্ষা ক্ষেত্রে অধিক ব্যয় হওয়ায় ধনীক শ্রেণীর মানুষের সন্তানদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপর দিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে সামান্য ব্যয় হওয়ায় সাধারণ ঘরের সন্তানদের শিক্ষার মান কমে আসছে। উচ্চ শিক্ষা লাভ, বিদেশে শিক্ষা লাভ, চাকুরী সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তথ্য মোতাবেক বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক ব্যয় ৪ লাখ টাকা। অপর দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর জন্য বার্ষিক ব্যয় মাত্র ৭ শত ৪১ টাকা। (চলবে)
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর