পিতার কোলে চড়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মনি
অনিল চন্দ্র রায়,কুড়িগ্রাম: নাগেশ্বরী আদর্শ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। নীরবতা ভেঙ্গে পরীক্ষার শেষ ঘন্টা বাজতেই পরীক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসতে লাগলো। তাদের পিছনেই চুল-দাড়ি পাকা এক ব্যাক্তি হেঁটে আসছেন। প্রথমটায় মনে হলো কেন্দ্রের হল পরিদর্শক হবেন হয়তো! পরক্ষণেই তার কোলে এক কন্যা শিশু দেখা গেল। বিভ্রান্তি শেষ এখানেই নয়। কোলের কন্যা শিশুটি আসলে শিশু নয়। পঞ্চাশোর্ধ ফরমান আলীর এসএসসি পরীক্ষার্থী কন্যা ফারজানা আক্তার মনি।
মনি কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী উপজেলার গাগলা বালিকা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ হতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। উপজেলার কুটি বাগডাঙ্গা গ্রামের ফরমান আলী ও রাবেয়া বেগম দম্পতির একমাত্র মেয়ে সে। উচ্চতায় মাত্র ৩৩ ইঞ্চি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য বাবার কোলে করেই কেন্দ্রে যাতায়াত করে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে।
স্কুল শিক্ষক বাবা ফরমান আলী জানান, মনির বর্তমান বয়স বয়স ১৫ বছর ৩ মাস। জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনিকে এখনও শিশুর মতো করেই লালন পালন করতে হয়। গোসল করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি খাবারও তুলে খাওয়াতে হয়। অন্যের সহায়তা ছাড়া একা একা ভালো করে হাঁটতেও পারে না মনি। এত প্রতিবন্ধকতার মাঝে পড়া লোখা করার ইচ্ছটা তার প্রবল। জেএসসিতে এ গ্রেড পাওয়া মনি এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অন্য স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতো করেই পরীক্ষা দিচ্ছে।
ফরমান আলী আরও জানান, মনির প্রয়োজনীয় সব কাজ ওর মা করে দেন। আর ফরমান আলী ও মনির দুই ভাই মিলে পালাক্রমে তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা করেন। তাতে কোন কষ্ট নেই তাদের।
ফরমান আলী বলেন, একটাই মেয়ে আমার, অনেক আদরের। কষ্ট একটাই, মেয়েটা অন্য সবার মতো স্বাভাবিক নয়। মেয়েটা যদি আমার অন্যসব মেয়েছেলের মত স্কুলে যাওয়া আসা করত- কথা আর এগুতে পারেননা ফরমান আলী। আবেগ আপ্লুত হয়ে থেমে যান। নিজেকে সামলে নিয়ে ফরমান আলী বলেন, এরপরও ওর পড়াশোনার প্রতি যেটুকু আগ্রহ তাতে ও যতদিন চাইবে পড়বে।
মেয়েকে নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে ফরমান আলী বলেন, ও তো অন্য সবার মেতা স্বাভাবিক নয়। তারপরও ও যতদিন পড়তে চায় আমি পড়াবো,যাতে ওর মনে কোন কষ্ট না থাকে।
মনির কী ইচ্ছা মনি জানায় আমি পড়াশোনা শেষে একটা চাকরি করতে চাই।
গাগলা দ্বিমূখী বালিকা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন,  মনি শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় মোটামুটি ভাল। আশা করি সে এসএসসিতে ভাল রেজাল্ট করবে।
নাগেশ্বরী আদর্শ পাইলট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, আমি যতবার হল পরিদর্শনে গিয়েছি ততবারই দেখেছি মেয়েটি অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মত মনোযোগের সাথে আজ সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে তার সফলতা কামনা করি। সে যেন তার লক্ষ্যে পৌছাতে পারে ।


 



জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর