১৯৫০সালে প্রতিষ্ঠিত রেলওয়ে সরকারি চিলড্রেন পার্ক স্কুলটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ॥ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত
শহিদ ইসলাম: লালমনিরহাট ছিল রেলওয়ে শহর। ১৯৫০ সালে রেলওয়ে চিলড্রেন পাকা (সিপি) স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। পর্যায়ক্রমে এটি জুনিয়র ও হাইস্কুলে পরিণত হয়। ১৯৬১ সালে ১ম ব্যাচে ছাত্র-ছাত্রী এই স্কুল থেকে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ১৯৭৩ সালে এই স্কুলটিকে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে নানাবিধ সমস্যার দরুন শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
সুদীর্ঘ ৭০ বছরের স্কুলটি কয়েক জায়গায় স্থানান্তরিত হয়ে ৮০ দশকে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের পার্শ্বে নিজস্ব ৬ একর ৩২ শতাংশ জমির উপর স্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান ও খেলা ধুলাসহ অনান্য কার্যক্রম চলে আসছে।
রেলওয়ে সরকারি চিলড্রেন পার্ক স্কুলটিতে শিক্ষক ও শ্রেণী কক্ষ স্বল্পতার দরুন ১৯৯৮ সাল কেবি ১ম, ২য় ও ২য় শ্রেণী এবং পর্যায়ক্রমে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী সর্বশেষ ২০১৭ সালে ৫ম শ্রেণীর পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। রেলওয়ে  সরকারি স্কুলটিতে মাটি ভরাট না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে স্কুল মাঠ ও প্রাঙ্গণে পানি জমে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অসুবিধা দেখা দেয়। এদিকে স্কুলের পশ্চিম দিকের দেয়াল  কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়া সত্বেও তা মেরামত করা হয়নি।
১৯৮৬ সালে ১তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ভবনের ছাদে ফাঁটল দেখা দেয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ  ছাদ ভেঙ্গে টিন লাগিয়ে দেয়। পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রে লেখাপড়া করে। ছাত্রীদের জন্য পৃথক আধুনিক, মানসম্মত কমন রুম ও ওয়াশ রুম নেই । স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৭০ জন। তন্মধ্যে ছাত্রী ১১২ জন। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষক সংকটের দরুন স্কুলে ক্লাশ বন্ধ রাখতে হয়।
সরকারি বিধি মোতাবেক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় বানিজ্য বিভাগ চালু থাকলে সেখানে ২৪ জন শিক্ষকের পদ থাকবে। কিন্তু এই স্কুলটিতে কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষকসহ  ৮জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তন্মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২ জন, বাণিজ্য বিভাগে ১ জন ও মানবিক বিভাগে ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।এখানে উচ্চমান সহকারী,  অফিস সহকারী ও দপ্তরী পদ শুন্য রয়েছে।
রেলওয়ে সরকারি সিপি স্কুল রেলওয়ে বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত। স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন বরাদ্দ নেই। বিভাগীয় পর্যায়েও বরাদ্দ নেই বললেই চলে। লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাসা নির্মাণ, পুননির্মাণ, মেরামত, সংস্কার, সৌন্দর্য বর্ধণ এবং সড়ক নির্মাণ পুনঃনির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। বিগত ৩৪ বছর এই স্কুলটির উন্নয়নে যৎসামান্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে রেলওয়ে বিভাগের কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্তান লেখাপড়া করে না। তাই এখানে রেলওয়ে দপ্তরের কর্মরত ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সন্তানেরা লেখাপড়া করে। তাই বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কোনরূপ দায়িত্ব নেই বললেই চলে। স্কুলের শিক্ষক সংকট দূরকরণ, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ছাত্রীদের জন্য পৃথক কমন রুম, আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণ, স্কুলের মাঠের ও প্রাঙ্গণের জলাবদ্ধতা নিরসন অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তারা কোনরূপ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না।
রেলওয়ে মন্ত্রণালয় হেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এখানে একাডেমিক ভবন নির্মাণ অবকাঠামো সংস্কারসহ অন্যান্য উন্নয়মূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেন না। এ ব্যাপারে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর তাদের বরাদ্দ থেকে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে।
ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে সিপি স্কুলে অধ্যায়ন করে বর্তমানে অনেকেই দেশে ও বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত রয়েছেন। তন্মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নাসায় কর্মরত বিজ্ঞানী এরশাদ আলী এই স্কুলের ছাত্র। তাছাড়াও ৬০ বছরে অনেক বরেণ্য ব্যক্তি এই স্কুলে অধ্যায়ন করেছিলেন।
স্কুলের সমস্যা নিয়ে রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজারকে মোবাইল করে উত্তর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জোনের চীপ পার্সোনাল অফিসার এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রেলওয়ে সরকারি সিপি স্কুলের শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরও জানান বিশেষ ব্যবস্থায় রেলওয়ে দপ্তরে কর্মরত মেধাবী কর্মকর্তাদের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতে মামলা থাকায় নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্কুলের নানাবিধ সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
শিক্ষা বার্তা- এর অন্যান্য খবর