কুমড়ীরহাট এস.সি স্কুল এন্ড কলেজ উন্নয়নে নতুন মাত্রা প্রধান শিক্ষক কাজল
সবুজ আলী আপন: ১৯৪১ সালে স্থাপিত হয়  লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কুমড়ীরহাট এস.সি স্কুল এন্ড কলেজ। ঐতিহ্যের দিক থেকে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসা  বিদ্যালয়টি উন্নয়নে নতুনমাত্রা পায় ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজলের যোগদানে। তাঁর যোগদানের পরের বছরটিতেই (২০১৪) এসএসসিতে ৭ জন গোল্ডেন এ+ সহ ১২ জন এ+ লাভ করে। সেই থেকে বিদ্যালয়টির লেখাপড়া ও অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নে প্রধান শিক্ষকের দক্ষ নেতৃত্ব প্রশংসা কুড়িয়ে চলছে সর্বমহলে। ওই বছরই (২০১৪) একটি ভালো স্কুলের চাহিদা মোতাবেক কলেজে রূপান্তরিত হয় বিদ্যালয়টি।
গতবছর (২০১৯) এসএসসিতে স্কুলটি দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে মানবিক বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৭ম স্থান লাভের সাথে ৫ জন বৃত্তিও লাভ করে। ওই বছর পাশের হার প্রায় ৯৬% এবং প্রতিবছর এ+ সহ গড় পাশের হার প্রায় ৯০%। এ স্কুল থেকে পাশ করা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন নামকরা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ লাভ করেছে। এছাড়াও ২০১৮ তে স্কুলটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরষ্কার লাভ করে। স্কুলটির এমন নানাবিধ ধারাবাহিক সাফল্যের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় দূরদূরান্ত থেকে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৫০ জন। স্কুলটিতে ২০১৮ সালে জেএসসি এবং এ বছর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হয়। সরকারের কারিগরী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে সেসিপ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় একমাত্র প্রি ভোকেশনাল কোর্সসহ বিল্ডিং এবং পাঠদানের অনুমতিও প্রাপ্ত হয়েছে বিদ্যালয়টি। অজোঁপাড়া-গাঁয়ের ওই স্কুলটির বর্তমান দৃশ্যপট অনেকটা’ই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার রুম, সততা ষ্টোর, স্কুল ক্যান্টিনসহ লেগেছে  উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়া। এনটিআরসিএ থেকে সম্পন্ন হয়েছে দক্ষ  শিক্ষক নিয়োগও। দায়িত্ব কর্তব্য পালনে বিভিন্নভাবে শিক্ষকদেরকে উৎসাহিত করে থাকেন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকরাও আন্তরিকতার সাথে চালান পাঠদান কার্যক্রম।  প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল এর আগেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক স্কুলে প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭তে মাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ২০১৯ এর প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে আদিতমারী উপজেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
বিদ্যালয়টি’ প্রতি বছর ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান মেলা, আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরষ্কার লাভ করে। 
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্বদ্যালয়টিতে মনোরম পরিবেশে পাঠ দান দেয়া হয়।
ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী  ফাহিমা আক্তার ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার মিষ্টি বলেন, আমাদের শিক্ষকরা পাঠদানের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক রুটিন মাফিক পাঠদানের বাইরেও তারা অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। সেই সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কঠোর মনিটরিং।
এছাড়াও কম্পিউটার, বিভিন্ন খেলার সরঞ্জামাদি, শহীদ মিনার স্থাপন, সাইকেল গ্যারেজ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ, বিদ্যালয় অঙ্গনে শোভাবর্ধন,  স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় বই বিতরণ, স্কুল ড্রেস ও বৃত্তি প্রদান, দরিদ্র পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের ব্যবস্থা, শিক্ষক, নাইটগার্ড ও পিয়নের পোশাকের ব্যবস্থা করা, বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানাদি যথাযথভাবে পালন করা হয়। ফলে সাফল্যের সাথে এগিয়ে  চলছে বিদ্যালয়টি। নিজ উদ্যোগে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি বিল্ডিং নির্মানের কথা জানিয়ে প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল বলেন’ বিদ্যালয়ের সম্পদসমূহের সংরক্ষণে প্রচেস্টা চালিয়ে আসছি এবং এটিকে দেশের একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন লালন করে কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছি’। সুখের কথা এই যে, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য ইতিপূর্বে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে নাম প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সর্বাত্মক প্রচেষ্ট অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব রফিক উদ্দিন জানান জনাব কামরুল ইসলাম কাজল প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে যোগদানের পরেই ঘটছে বিদ্যালয়টির আমুল পরিবর্তন। জেএসসি,  এসএসসি কেন্দ্রসহ বিদ্যালয়টিকে কলেজে রূপান্তর, ভকেশনাল ব্লিডিংসহ ভকেশনাল কোর্স চালু, মাননীয় সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীর মাধ্যমে শিগগিরই একটি ৪ তলা ভবন নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবু পূর্ন চন্দ্র বর্মন বলেন বর্তমান প্রধান শিক্ষকের দক্ষ এবং যোগ্য নেতৃত্বে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য, সুনাম অবকাঠামো উন্নয়ন ফলাফলসহ সার্ভিক দিক থেকে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। আমি বিশ্বাস করি  তার গতিশীল নেতৃত্বে শিগগিরই বিদ্যালয়টি একটি মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। আর এ জন্যই আমি পূর্বের ন্যায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসি এবং কার্যক্রমগুলো দেখভাল করি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব এএসএম আরিফ মাহফুজ জানান, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়ার সচেষ্ট রয়েছে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
শিক্ষা বার্তা- এর অন্যান্য খবর