অধিকার ও সচেতনতায় পিছিয়ে লালমনিরহাটের শহীদ শাহজাহান কলোনী!
স্টাফ রিপোর্টার:  উত্তরের পিছিয়ে পড়া জেলা লালমনিরহাট। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও আজও যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে শহীদ শাহজাহান কলোনীটি।
 অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওই কলোনীটিতে গেলে দেখা যায় মৌলিক ও মানবাধিকার দূর্ভোগের নানা চিত্র। প্রায় এগারো'শ পরিবারের পাঁচ হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাসের ওই কলোনীটিতে বি গ্রেড মানের একটিমাত্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে গড়ে উঠেনি কোনো মানসম্মত,আধুনিক, যুগোপযোগী কিংবা উচ্চ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নারী অগ্রযাত্রার  এ যুগে গড়ে উঠেনি কোনো বালিকা বিদ্যালয়ও। নেই চিকিৎসা ও ঔষধপত্র প্রাপ্তির ব্যবস্থা ফলে অনেকেই নির্ভর করছে কবিরাজী চিকিৎসায়। বিষ ব্যথার ঔষধ হিসেবে কবিরাজী চিকিৎসায় দু' পায়ের গোড়ালীতে রাবার পড়ে থাকতে দেখা গেছে কলোনীর পরশ মোল্লার স্ত্রী জরিনা বেগম(৫৬) সহ কয়েকজনকে।
এখানে আয়রনযুক্ত টিউবয়েলের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অনেকটা নাজুক। উপরন্তু স্লাববিহীন ড্রেনে দুর্গন্ধময় পরিবেশে সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন নারী, শিশু অনেকেই। সেখানে  বিভিন্ন  বেসরকারী সংস্থার ক্ষুদ্রঋন কার্যক্রম থাকলেও নেয়া হয়নি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ সহ কোনো সচেতনতা ও জীবন মান উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম। ফলে দিনের পর দিন অনেকটাই সচেতনতার ছোঁয়া বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে কলোনীবাসী। সামাজিক অপরাধ বিষয়ে অসচেতনতার দরুন আছে বাল্য ও বহুবিবাহ সমস্যা,যৌতুক নারী নির্যাতন  পারিবারিক সহিংসতাও। বহুবিবাহের ফলে বাড়ছে স্বামী পরিত্যক্তা নারীর সংখ্যাও। বিষয়গুলো  জানান ফাতেমা, আছিয়া,পারভীন, মহিজন, আছিয়া ও জহিরন সহ অনেকেই। আবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা অনেকটা অধরা রয়েছে এমন কথাও জানান কলোনীবাসী সালেহা (৪৫)ও ছকিনা(৯০)। এ বিষয়ে  সমাজ সেবা অধিদপ্তর লালমনিরহাটের উপ পরিচালক  অনিরুদ্ধ রায় জানান বরাদ্দের অপ্রতুলতার কথা।
এদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগের অভাবে কলোনীর নারীদের ঘরে বসেই বেকার সময় কাটাতে হয়। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সাংসারিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে মতামতের গুরুত্বেও পিছিয়ে আছেন তারা।বয়ঃসন্ধি ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে অসচেতন থাকছে বেশিরভাগ মেয়েরা।
কলোনীর লোকজনের মধ্যে ঘটেনি নেতৃত্বের বিকাশও। ফলে প্রতিনিধিত্ব ব্যাপারটা তাদের কাছে অনেকটাই আকাশ কুসুম কল্পনা।  এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়েছে বাঁশের খুঁটি। এতে রয়েছে প্রাণহানির শঙ্কাও। একই সাথে যাতায়াতের জন্য প্রসস্থ রাস্তা না থাকায় অগ্নিকান্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায়  ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তারা।
এখানে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ক্লিনিক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন শহীদ শাহজাহান কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেন সহ অনেকেই। কলোনীটির বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে কথা হলে পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু জানান আধুনিক পরিচ্ছন্ন কলোনী হিসেবে গড়তে এখানে  রাস্তা, বিদ্যুত,পানি,ড্রেন ও  স্যানিটারি ল্যাট্রিন, সোলার প্যানেল স্থাপন সহ ৮ টি বিষয়ে উন্নয়ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং কলোনীবাসী  নিজেদের কাজ নিজেরাই করবে এমন ব্যবস্থাও করা আছে। তিনি বলেন ভাটা থেকে নতুন ইট বের হলে ডিসেম্বরেই এসব উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। চিকিৎসা বিষয়ে পৌরসভায় এমবিবিএস এর ফ্রিসেবা নিতে কলোনীবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি। সর্বোপরি কলোনিটির উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে গঠিত কমিটির মাধ্যমে পরিকল্পনা তৈরী ও তা বাস্তবায়নে কমিটির এ্যাডভোকেসী জরুরী বলে মনে করছেন বিজ্ঞমহল
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর