টক অব দ্যা দাউদ!
স্টাফ রিপোর্টার: 'নৈশপ্রহরী থেকে কোটিপতি' শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বর 'লালমনিরহাট বার্তার' অনলাইন ভার্সনে ও ৩০ সেপ্টেম্বর ভার্সনে প্রকাশের পর পুরো জেলা জুড়ে টক অব দ্যা দাউদ এ পরিণত হয়েছে। মুহুর্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ভাইরাল হয়ে হয়। এরপর অনেকেই তার বিরুদ্ধে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। শুধু তাই নয়,আদিতমারীর অধিকাংশ স্থানেই সংবাদটি হইচই ফেলে দেয়।
ইকবাল হোসেন দাউদের চলমান কাজ ও পূর্বের করা কাজ নিয়ে অনেকেই কমেন্টস করেছেন। তারা দাবী করেন,এসব কাজ সুষ্ঠভাব তদন্ত করলে তার আসল রুপ বেরিয়ে আসবে। তারা আরও দাবী করেন, তদারকি কর্মকর্তাদের কারনেই ঠিকাদার দাউদ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের একজন স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন,তার স্কুলের ভবনের কাজ চলমান। কাজের মান নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আমিনুর রহমানকে অভিযোগ দিলেও কোন কর্নপাত করছেন না। ওই শিক্ষক দাবী করে বলেন, গ্রেড রড দেয়ার কথা থাকলেও তিনি নন গ্রেড রড দিয়ে ভবণের কাজ করছেন। শুধু তাই নয়,বিদ্যালয় ভবণে বালু ফিলিং করার কথা থাকলেও তিনি বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে তা ভরাট করছেন।
এদিকে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কালীস্থান এলাকার বাসিন্দা বাবলুর রহমান বলেন, কালীস্থানে ঠিকাদার ইকবাল হোসেন দাউদ রাস্তার কাজ করার সময় এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করায় উল্টো তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবী করে বলেন,ইকবাল হোসেন দাউদ উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হয়েও কিভাবে দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার খুঁটির জোর কোথায়?
মহিষখোচা এলাকা বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা তমিজার রহমান বলেন, কিছুদিন আগে তার এলাকায় দাউদ ও তার লোকজন রাস্তার কাজ করেছেন। কাজের শুরু থেকে মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি কোন কর্ণপাত করেননি। এমনকি রাস্তার দুধারে তিন ফিট মাটি ভরাটের কথা থাকলেও তা তিনি করেননি। তিনি আরও বলেন,যেখানেই কাজ করবেন তিনি সেখানেই সরকার দলীয় একজন লোকের শরনাপন্ন হয়ে থাকেন। এটাই তার চিরাচরিত নিয়ম।
এদিকে লালমনিরহাটের একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন রাস্তার কাজের শুরুতেই স্টিমেটে একটা ডাব্লিউবিএম ধরা হয় আর কাজ করার সময় তিনি ( দাউদ) না করে অনিয়ম করে থাকেন। এসব বিষয় উদ্ধতন কতৃপক্ষ জানার পরেও না জানার ভ্যান করে থাকেন। কারন ওই সব কর্মকর্তারা তার কাছে ম্যানেজ হয়ে থাকেন।
এদিকে ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বুড়িরবাজার থেকে মহিষখোচাগামী রাস্তার কাজ নিয়ে শুরু থেকে অনিয়মের অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীর। কিন্তু তিনি কোন তোয়াক্কা না করেই কাজ শেষ করেন। রাস্তার দুধারে তিন ফিট মাটি ভরাটের কথা থাকলেও তা তিনি করেন নি। কিন্তু কাজের তদারকি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করাই ছিল তার মুখ্য কাজ।
ইকবাল হোসেন দাউদ একজন সুচতুর ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। তিনি কখনও নিজের লাইসেন্সে কাজ করেন না। অন্যের নামের কাজ দ্বিগুন দামে কিনে তা তিনি করে থাকেন। তেমনি একটি কাজ বুড়িরবাজার থেকে মহিষখোচা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ। এ কাজের মূল ঠিকাদার আদিতমারীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম। তিনি এ কাজটি তার কাছ থেকে কিনে করছেন। আর কাজটি অসমাপ্ত থাকায় হাজারো লোক ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
এ প্রসংগে উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আমিনুর রহমান বলেন, কি আর করার? ঠিকাদার কাজ না করলেও আমারই বা কি করব?
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর