সীমান্তে কোন প্রাণহানি হয়নি : এবার ঈদে কৃষক ও খামারীরা পশুর দাম পেয়ে খুশি
জাহাঙ্গীর আলম শাহীন: কোরবানির ঈদকে ঘিরে লালমনিরহাট সীমান্তে গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রনে ছিল। তাই সীমান্তে কোন প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় গরু দিয়ে চাহিদা পুরণ হয়েছে। কৃষক ও খামারীরা পশুর দাম পেয়ে খুশি।
লালমনিরহাট জেলা ভারতীয় সীমান্তর্ধী একটি জেলা। এই জেলায় ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার। এই সীমান্তের প্রায় ৮০ কিলোমিটারে কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই। সীমান্তের কাঁটাতার বিহীন এলাকা গুলো বেশীভাগ দূর্গম নদী পথ। ইচ্ছা থাকা সত্বেও নানা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উভয় সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশের বিজিবি কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখতে পারেনা। এই সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা। লালমনিরহাটের প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি , রংপুর ৫১ বিজিবি ও রংপুর ৬১ বিজিবি। শুধুমাত্র দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা তিন বিঘা করিডোর দিয়ে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন ৬০টি গরু বাংলাদেশের হাটে প্রবেশ করে। এই ৬০টি গরু চেয়ারম্যান মেম্বারদের স্লিপের মাধ্যমে কৃষকের গরু হিসেবে করিডোর দিয়ে প্রবেশ করে। যদিও প্রকৃত কৃষকরা গরু বিক্রির জন্য হাটে নিতে পারে না। এখানে চোরাচালানি সিন্ডিকেট কাজ করে। তাছাড়া সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির তৎপরতার কারনে ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। এতে করে এবারের কোরবানির ঈদে ভারত সীমান্তে বা বাংলাদেশের সীমান্তে কোন ধরনের হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে একটু সুযোগ পেলেই চোরাকারবারিরা সীমান্তের চোরাই পথ দিয়ে মাদক দ্রব্য, প্রসাধনী সামগ্রী, ঔষধ ও ক্ষুদ্র অস্ত্র নিয়ে আসছে। ভারতের সীমান্ত গ্রামে ৫শত টাকা হলেই কয়েক রাউন্ড গুলিসহ ১টি পিস্তল পাওয়া যায়।
লালমনিরহাট প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুয়ায়ী লালমনিরহাট জেলায় এবছর পশু কোরবানি হয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ প্রায় ৭০ হাজার । এই জেলায় বড় ধরনের পশু খামারী ছিল প্রায় ৩হাজার। ৩হাজার খামারে প্রায় ৫০ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল। এছাড়াও পারিবারিক কেন্দ্রীক কৃষকের খামার ছিল ৪০ হাজার । এই সব কৃষক পরিবারে একটি থেকে ৩টি পর্যন্ত গরু ঈদ উপলক্ষ্যে প্রতিপালন করে বাজারে বিক্রয় করেছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পরেও ঢাকা, চট্রগ্রাম, কমিল্লাসহ বাহিরের জেলা গুলোতে গরু সরবরাহ হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু না আসায় গরু প্রতিপালন করে ক্রষক পরিবার ও খামারীরা লাভবান হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের জেলা কর্মকর্তা হিসাবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা কর্মকর্তা ডাঃ মকবুল হোসেন এই তথ্য দিয়েছেন। ভারতীয় সীমান্তে গরু চোরচালান বন্ধ থাকায় এরারের ঈদে সীমান্তে কোন প্রাণহানি হয়নি। সীমান্ত ছিল শান্ত। লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। এই সরকার খামারী ও কৃষকদের স্বার্থরক্ষা করতে সীমান্তে কঠোরনজরদারীর মধ্যে রাখে। তাই ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে আসতে পারেনি। তাই গরুর খামারীরা ও কৃষক পরিবার  গুলো তাদের গৃহপালিত গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের ন্যাষ্যমূল্য পেয়েছে। তাই কৃষক ও খামারীরা পশুর দাম পেয়ে খুশি।


জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর