বীরবলের গল্প
বার্তা রিপোর্ট: সম্রাট আকবর তাঁর বাগানে হাঁটাহাঁটি করছেন। হঠাত্ একটা পাথরের সঙ্গে পা লেগে হোঁচট খেলেন তিনি। মেজাজ খোশ ছিল না সেদিন। দুর্ঘটনা মেজাজ বিগড়ে দিল আরো। ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন বাদশাহ। মালিকে গ্রেফতার ও ফাঁসি দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
পরদিন দরবার বসেছে। আজ মালির ফাঁসি কার্যকর করা হবে। সম্রাট জানতে চাইলেন, মালির কোনো অন্তিম আকাঙ্ক্ষা আছে কি না। থাকলে সেটা পূরণ করা হবে।
মালি আরজ করল, তার কিছু কথা যেন সম্রাট একটু মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
আবেদন মঞ্জুর করা হলো। মালি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল সিংহাসনে
আসীন সম্রাটের কাছে। নিকটে পৌঁছে সে গলা খাঁকারি দিল। তারপর হঠাত্ সম্রাটের পায়ে থুতু ফেলল।
সম্রাট আকবর ভীষণ তাজ্জব হলেন এই ঘটনায়। একটা মালির কত বড় স্পর্ধা। বিস্মিত হয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন। আসলে মালি এই ঘটনা নিজের বুদ্ধিতে ঘটায়নি। বিচ্ছিরি কাজটি সে করেছে বীরবলের পরামর্শে। এবার বীরবল মুখ খুললেন মালির পক্ষে। সবিনয়ে বললেন, জাঁহাপনা, এই দুর্ভাগা লোকটির মতো বিশ্বস্ত প্রজা আপনি খুব কমই পাবেন। আপনি তুচ্ছ একটা কারণে ওর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন—রাজ্যময় লোকেরা একথা বলাবলি করবে। সেজন্যে মালি ফাঁসির উপযুক্ত একটা কারণ সৃষ্টি করল আপনার জন্য। অদ্ভুত আচরণ করার শানেনজুল হচ্ছে এটাই।
সম্রাট আকবর তাঁর ভুল বুঝতে পারলেন। বুঝলেন যে, গুরুতর একটা অন্যায় তিনি করতে যাচ্ছিলেন। তত্ক্ষণাত্ মালিকে মুক্ত করে দেয়া হলো।


বিনোদন বার্তা- এর অন্যান্য খবর