দেশে প্রতিবন্ধী স্কুল খোলার কোন সরকারী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি -সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি : সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, দেশের গ্রামে গঞ্জে, পাড়ায় মহল্ল¬ায় প্রতিবন্ধী স্কুল খোলার সরকারী কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। কতিপয় স্বার্থানেষী মানুষ প্রতিবন্ধী স্কুল খুলে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি এইরূপ স্বার্থনেষী ব্যক্তির খপ্পরে না পরার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
১৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নয়ন মডেল। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা  বিশ্বকে চমকিয়ে দিয়েছে, বাংলার মানুষের মনে স্বস্থি ও শান্তি ফিরে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ১২০ ভাগ বৃদ্ধি করেছেন। পৃথিবীতে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের একই সাথে বিপুল পরিমান বেতন বৃদ্ধির কোন নজির নেই। প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবলের জন্য এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের কে নিরলস ভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানান। সেইসাথে অনুন্নত ও সার্বিকভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত লালমনিরহাট জেলার মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। এই অপশক্তি দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ও অরাজকতা সৃষ্টি করে সরকারকে উৎখাত করতে চায়। তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হবে না। জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোন অপশক্তিকে প্রতিহত করবে।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণায়ল সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আমরা সবাই চলে যাব। রেখে যাব তোমার আমার কৃর্তি। তিনি জেলার সরকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ২০/২২ বছর চাকুরী করে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়েছেন। স্ব স্ব বিভাগ সম্পর্কে আপনাদের যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা রাজনীতিক নেতারা প্রতিটি বিভাগ সম্পর্কে ততোটা জানি না। তাই আপনারা আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা না করলে দেশের মানুষের কাঙ্খিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আপনারা জনসেবা করার প্রতিশ্র“তি  নিয়ে চাকুরীতে নিয়োজিত হয়েছেন আমরা রাজনীতিক নেতা কর্মীরা জনসেবা প্রতিশ্র“তি দিয়ে জনগণের ভোটে এমপি হয়েছি, পরে মন্ত্রী হয়েছি। কাজেই আমাদের উভয়ের লক্ষ্য একটাই তা হচ্ছে জনগণের সেবা করা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এক উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মোতাহার হোসেন এম.পি গ্রামে গঞ্জে, পাড়ায় মহল্ল¬ায় প্রতিবন্ধী স্কুল খোলার বিষয়ে সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, হাতীবান্ধা উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৪৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একটি স্কুলের খোজ নিয়ে জানলাম সেখানে ৬ রুম বিশিষ্ট পাকা ঘর তৈরী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ৪০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। আদায়কৃত ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ টাকা ইতিমধ্যে খরচ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান গুলির ভবিষ্যত কি? তিনি আরো বলেন বুড়িমারী স্থলবন্দরে ট্রাক থেকে অবৈধভাবে চাঁদাবাজী বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. সফুরা বেগম রুমি বলেন, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তারকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবার জন্য আহবান জানিয়ে ছিলাম।  আশানুরুপ সাড়া পাইনি। তিনি জেলার উন্নয়নের স্বার্থে সরকারী কর্মকর্তাদেরকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারী দপ্তরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে মারাত্বক লোকবল সংকট, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিসে অনুপস্থিতি, নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না করা, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু উদ্বোধনের জন্য এলজিইডির তত্বাবধানে দ্রুত সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করা, সেই সাথে অতি সত্বর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাগুলোর মেরামত সম্পন্ন করা। সড়ক বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পাটগ্রাম বুড়িমারী সড়ক পূর্ন নির্মানের কাজ সম্পন্ন করন। বুড়িমারী থেকে সান্তাহার  রেল স্টেশন পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেন চালু করন, বুড়িমারী থেকে ঢাকা গামী তিনবিঘা এক্সপ্রেস ট্রেন অতিসত্বর চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন। বিদ্যুৎ, সার, বীজ সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার এস. এম. রশিদুল হক, পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ, আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আয়ুব আলী, পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র সমশের আলী, বিটিভি জেলা প্রতিনিধি গেরিলা লিডার ড. এস. এম. শফিকুল ইসলাম কানু প্রমুখ। সভা সঞ্চালন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক রেজাউল আলম সরকার। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগন নিজ নিজ দপ্তরের উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমস্যা তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ সদস্যগণকে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানান। সভায় জেলা পযার্য়ের কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ জেলা উন্নয়ন কমিটি সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর