লালমনিরহাটে কাবা ঘর নিয়ে কটুক্তি কারী শ্যামল গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার:  লালমনিরহাটে কাবা ঘর নিয়ে কটুক্তি কারী শ্যামল চন্দ্র রায় শিমুল (২৪) কে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
২০ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। এর আগে শ্যামলসহ দুই ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে জেলার কালীগঞ্জ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৮ অক্টোবর ¬¬¬রাতে ওই উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের হরবানীনগর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে কামরুজ্জামান রাজু (২৮) বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর আসামীরা হলেন, অজ্ঞাত ঠিকানাধারী মহম্মদ সাফেক উদ্দিন। আটক শ্যামল কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের হরবানীনগর চওড়াটারী এলাকার চিত্ত রঞ্জন রায়ের পুত্র ও স্থানীয় উত্তরবাংলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে কালীগঞ্জের শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকার জনৈক এমদাদুল হক মিলন নামে এক ব্যক্তির ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকানে বসে ছিলেন হরবানীনগর এলাকার আবুল কালাম ছেলে কামরুজ্জামান রাজু। এমন সময় স্থানীয় শ্যামল কুমার রায় শিমুলের ফেসবুক আইডিতে কাবা শরীফের একটি ছবি ও কিছু লেখা পোষ্ট দেখতে পান। এতে মুসলমানদের ধর্ম অনুভুতিতে চরম আঘাত করে আজেবাজে বিষয় দেখতে পান। এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ বাড়তে থাকে। কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসুল্লিরা দলে দলে মিছিলসহকারে শান্তিগঞ্জ বাজারে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে কয়েক হাজার মানুষের সমাগমে উত্তাল হয়ে ওঠে ঐ এলাকা। খবর পেয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে মামলা ও আসামী গ্রেফতারের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি ঘটলেও এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে সাদা ও পোষাকধারী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সনাতন ধর্মালম্বীদের পরিবারের বাড়ী গুলোতে পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা টহল জোরদার করা হয়েছে। অপর দিকে শ্যামল কুমার রায় শিমুলের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় বাড়ীতে কাউকেই পাওয়া যায়নি। শান্তিগঞ্জ বাজারে ঔষধ বিক্রেতা শ্যামলের জ্যাঠা মনোরঞ্জন চন্দ্র রায়কে বাড়ীতে পাওয়া যায়। পড়াশুনার পাশাপাশি শ্যামল কুমার রায় শিমুল ওই দোকান পরিচালনা করতেন। শ্যামল স্থানীয় উত্তরবাংলা কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। শ্যামল কুমার রায় শিমুল নামে ফেসবুক আইডিতে অপর মহম্মদ সাফেক উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করা একটি ছবি ও লেখা শ্যামল নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেন। ধর্মীয় আঘাত করার মতো এই ছবি ও পোষ্ট শেয়ার করার কারণে স্থানীয় মুসুল্লীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলনে শুরু করেন। এ ঘটনার পর থেকে শ্যামল চন্দ্র রায় এবং তার পরিবার পলাতক রয়েছে।
মামলার বাদী কামরুজ্জামান রাজু বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় স্বার্থে আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত মুসুল্লিদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিগঞ্জ বাজারসহ কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশের প্রত্যেকটি মোবাইল দলকে সমন্বয় করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর