উপর থেকে দিনরাতভর পড়ছে ঢিঁল, শিক্ষার্থীরা ছেড়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা
লালমনিরহাটে হাফিজিয়া ও কওমী মাদ্রাসায় অলৌকিক ঘটনা
স্টাফ রিপোর্টার: দিন-রাতভর অজ্ঞাত স্থান হতে ঢিঁল পড়ছে জেলা সদরের মহেন্দ্রনগর পাঠানপাড়া নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোডিংয়ে। আজ সোমবার বিকালে মাদ্রাসাটি কয়েক শিক্ষার্থী ও দশনার্থী শিশু কিশোর অজ্ঞাত স্থান হতে আসা ঢিঁলে আহত হয়। ভয়ে মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে বগুড়া হতে হেফজখানার পরীক্ষা নিতে এসেছেন মুফতি নূরুল আলীসহ তার এক সহযোগী। মাদ্রাসার এই আতস্কিত পরিস্থিতিতে তারা পড়েছেন বেকায়দায়।
    মাদ্রাসা হতে ২৩ পাড়া কুরআন হেফজ করেছেন ১৩ বছরের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মুরাগ। তাকে রবিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ার সময় নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মাদ্রাসার হতে প্রায় একমাইল দুরে রেললাইনের পাশে থাকা বটবৃক্ষের গোড়া হতে স্বজনরা উদ্ধার করে। আজ সোমবার তাকে পুনরায় শিশুটি হারিয়ে যায়। পড়ে তাকে তিস্তা হতে উদ্ধার করা হয়। শিশু মাহমুদুল হাসান মুরাদ জানান, সে কিছু বলতে পারে না। একজন মহিলা তাকে নিয়ে যায়। সে ওই মহিলাকে দেখতে পায়। অন্যরা দেখতে পায়না। শিশুটির বাবা আব্দুল ছালাম ও মা মাছুমা পারভীন এই খবর শুনে শিশুটিকে মাদ্রাসা হতে বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছে।
    হাফিজিয়া ও কওমী মাদ্রাসা ও প্রধান হুজুর হাফেজ এনামূল হক জানান, মাসখানে থেকে মাদ্রাসার টিনের চালায় দুই একটি করে ঢিঁল ছুড়ে মারা হচ্ছিল। প্রথমে ভেবে নেয়া হয়েছে কেউ হয়তো দুষ্টমী করে ঢিঁল ছুড়েছে। কিন্তু সোমবার হতে ঢিঁল ছুড়েমারার ঘটনাটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌচ্ছে গেছে। দিন রাত্রি থেমে থেমে ইটের বড়বড় ঢিঁল ছুড়ে মারা হচ্ছে। টিনের ঘরের বেড়া, টিনের ছাদ ঢিঁলের কারনে ছিঁদ্র হয়ে গেছে। এমন কী শিক্ষার্থীদের থাকার বডিং ঘরের আসবাবপত্র, ইলেট্রিক বাল্ব পর্যন্ত ঢিঁল মেরে  ভেঙ্গে  ফেলা হয়েছে। একই অবস্থা মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ ঘরটিরও।
    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আতস্কিত হয়ে পড়েছে। এদিকে মাদ্রাসাটিতে কুরআন হেফজর বাৎসরিক পরীক্ষা নিতে বগুড়ার মোনামগাড়ী মাদ্রাসা শীবগঞ্জ হতে মুফতি নূরুল আমীনসহ তার দুই সহযোগী এসেছে। তারা মাদ্রাসার আবাসিক ৫০ জন ও অনাবাসিক ১২৫ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিবেন। তারা এক বছরে কি ধরনের শিক্ষা অর্জন করেছে। তা জানতে এই পরীক্ষা প্রতিবছর নেয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আতস্কিত হয়ে পড়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের তার অভিবাবকরা নিয়ে যাচ্ছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভয়ে মাদ্রাসায় আসা ছেড়ে দিয়েছে।
    প্রথম আলোর লালমনিরহাটে কর্মরত সংবাদ কর্মী আব্দুর রব সুজন জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে খবর পেয়ে মাদ্রাসাটিতে ঘটনাটি দেখতে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদ কর্মীসহ যাই। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করা অবস্থায় একটি ঢিঁল তার শরীরে লেগে দুরে ছিটকে পড়ে যায়। এই সময় দেখতে আসা  কৌতুহলি এক শিশুর মুখে ঢিঁল লেগে নাক ফেটে যায়। ঢিঁল ছুড়ে মারার ঘটনাটি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। গ্রামের লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং টির্চারগণ বলছে দুষ্ট প্রকৃতির জীন পরীর কাজ হতে পারে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর