তিস্তা নদীর তীরে মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে আগামী ১ নভেম্বর দু’তীরে ২শত ৩০ কিলোমিটার মানববন্ধন
বার্তা রিপোর্ট: আগামী ১ নভেম্বর রবিবার সকাল ১১টায় তিস্তা নদীর মহা পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন ও ক্ষতিগ্রস্থদের স্বার্থ রক্ষার দাবীতে তিস্তা বাচাঁও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহবায়নে তিস্তার বাম ও ডান তীরে ২শত ৩০কিলোমিটার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
এই মানববন্ধনে তিস্তা নদী তীরবর্তী নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার কয়েক লক্ষাধিক ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিবর্গ সহ দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের নারী পুরুষ, যুবক, যুব মহিলা, বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা অংশ গ্রহণ করবেন। মানব বন্ধন কর্মসূচীকে সফল করার জন্য তিস্তা নদীর ডান ও বাম তীরে গন সংযোগ, লিফলেট বিতরণ, পোষ্টার লাগানো সহ আলোচনা সভা, উঠান বৈঠক ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ১৮ অক্টোবর রংপুরে কেন্দ্রীয় কমিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মানববন্ধন সফল করার জন্য রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন  পেশাজীবি সহ সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করে পত্র প্রেরন সহ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। নদীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প গ্রহণ করার প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়।
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯সালের জুলাই মাসে চীন সফরের সময় রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরৎ পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ডেন্টাপ্ল্যান ২১০০,ক্লাইমেট অ্যাডপটেশন সেন্টারে প্রতিষ্ঠা ও তিস্তা রিভার  ম্যানেজমেন্ট এন্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন। চীনের পক্ষ থেকে প্রধান মন্ত্রীকে জলবায়ু অভিযোজন কেন্দ্র নির্মান ও তিস্তা প্রকল্পে আর্থিক সহায়তায় আশ্বাস প্রদান করা হয়।চীন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে ৮ হাজার ৫শত কোটি ও পরবর্তীতে আরো ২ হাজার কোটি টাকা মোট ১০ হাজার ৫শত কোটি টাকা ঋণ সহায়তা প্রদানে করবেন।  
এই প্রকল্পের আওতায় তিস্তা নদীগর্ভে ড্রেজিং, পাড় সংস্কার ও বাঁধানো এবং ভূমি পনুরুদ্ধার করা হবে তাছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় বাঁধ মেরামত করা হবে। নদী ড্রেজিং, অবকাঠামো নির্মানের ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ,  গ্রীষ্মকালে পানির সংকট দূর ও নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ হবে। তিস্তা থেকে সৃষ্ট শাখা নদী ও অন্যান্য নদীগুলোতে ড্রেজিং ও পাড় নির্মান করে পানি প্রবাহ সঠিক রাখা ও কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে  নদীর পানি ব্যবহার করা হবে।
 তিস্তা নদীর বিস্তৃতি, ৩ থেকে ৫কিলোমিটার কোথাও বা আরো বেশী। নদীর বিস্তৃতি কমিয়ে দেড় থেকে ২ কিলোমিটারে নিয়ে আসা হবে। ফলে তিস্তা দুপাড়ে হাজার হাজার হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার হবে। পুনরুদ্ধারকৃত জমিতে আধুনিক চাষাবাদ সহ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা, পর্যটন কেন্দ্র নির্মান ও শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে জাপান তিস্তা তীরবর্তী এলাকার শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে হাজার হাজার যুবক ও যুব মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভূমিহীন ব্যক্তিরাও পুর্নবাসিত হবে। তিস্তা নদীতে নৌযান চলাচল করবে। কৃষি উৎপাদন, কৃষি পণ্যের বাজারজাত করন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লাবিক পরিবর্তন আসবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট খরা, বন্যা,নদীভাঙ্গন, অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা,উষ্ণতা, তাপপ্রবাহ, মরুভূমিকরনসহ বহুবিধ সমস্যা থেকে উত্তরাঞ্চল তথা সারা দেশ উপকৃত হবে।
 পরবর্তীতে এই প্রকল্পের সুফলকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য দেশের অন্যান্য বড় বড় নদীগুলোতে অনুরুপ প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হবে। সর্বপরি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দূর্দশা লাঘব করে তিনি চীরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন।   


জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর